Facebook SDK

পবিত্রতার বিবরণ ও অপবিত্র হওয়ার কারন


তাহারাত শব্দের অর্থ পবিত্রতা , পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি। আর শরীয়তের পরিভাষায় অন্তরকে সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা এবং বাহ্যিকভাবে সকল অপবিত্রতা থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকাকে তাহারাত বলা হয়।

 ইসলামী বিধানে পাক পবিত্রতার গুরুত্ব অত্যাধিক। তাছাড়া সাধারণভাবেও মানুষের পাক পবিত্রতা রক্ষার প্রয়েজেন রয়েছে। 

মানুষ আল্লাহর শ্রেষ্ঠ জীব সে হিসেবে অন্যান্য নিকৃষ্ট জীব বা পশু পাখির মত অপবিত্র বা অপরিষ্কার থাকতে পারে না। এটা মানুষের মর্যাদার বিপরীত।

 পাক পবিত্রতা দু ' প্রকারের - ১। আভ্যন্তরীণ পাক পবিত্রতা ২। বাহ্যিক পাক পবিত্রতা। 

অভ্যান্তরীণ পাক পবিত্রতাঃ মনের কাম , ক্রোধ , লোভ , হিংসা , বিদ্বেষ , জিদ , পরশ্রীকাতরতা প্রভৃতি কূস্বভাবগুলো সৃষ্টি হয়ে মানুষকে আভ্যন্তরীণ নাপাক বা অপবিত্র করে ফেলে। এগুলো দূরীভূত করে অর্থাৎ চরিত্র সংশোধন করে মানুষকে আভ্যন্তরীণ পবিত্রতা হাসিল করতে হয়।


 বাহ্যিক পাক পবিত্রতাঃ বাহ্যিক অপবিত্রতা সৃষ্টি হয় কতগুলো বাহ্যিক কারণ দ্বারা। তা থেকে পবিত্রতা হাসিলও করতে হয় আবার বাহিরের বস্তুসমূহের মাধ্যমে যথাস্থানে এসব বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। তার পূর্বে পাক পবিত্রতার ফযীলত সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করা হল। আল্লাহ্ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন , নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। ( সূরা বাকারা , আয়াত : ২২২ ) সম্ভবতঃ এজন্য আল্লাহ তা’য়ালা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদাত নামায আদায়ের জন্য তার বান্দার প্রতি পাক পবিত্রতার জন্য শুধু শর্ত করে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ্ ( সঃ ) বলেছেন , পাক পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। ( সুনানে তিরমিজি , হাদিস : ৩৫১৯ ) অন্য এক হাদীসে বলেছেন , পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। ( সহিহ মুসলিম , হাদিস : ৪২২ ) 


অপবিত্র হওয়ার কারন?

মানুষ নাপাক হয় দু’ভাবে৷ আভ্যন্তরীণভাবে এবং বাহিক্যভাবে৷ বাহিক্যভাবে নাপাক হওয়ার অবস্থা আবার দু ' টি৷ যেমন - ( ক ) দেহাভ্যন্তরগত নাপাক ও ( খ ) বহিরাগত নাপাক৷ 

দেহাভ্যন্তরগত নাপাকঃ স্বামী - স্ত্রীর গুপ্ত অঙ্গ মিলিত হওয়া , যে কােনভাবে বীর্যপাত হওয়া , স্ত্রীলােকের হায়েয - নেফাস হওয়া৷ উল্লেখিত অবস্থাগুলােতে মানুষ অপবিত্র হয়৷ এসকল অবস্থায় পবিত্রতা হাসিলের জন্য গোসল করা আবশ্যক৷ এছাড়া মানুষের মল মূত্র দ্বার হতে মল - মূত্র , বা অন্য কিছু বের হওয়া কিংবা শরীরের কোন জখমাদি হতে রক্ত , পুঁজ ইত্যাদি বের হয়ে জখমের মুখ হতে গড়িয়ে যাওয়ায় মানুষ লঘু নাপাক হয় , অর্থাৎ এসব অবস্থায় গোসলের প্রয়োজন হয় না কেবলমাত্র ওযু করলেই পবিত্রতা হাসিল হয়৷ 



বহিরাগত নাপাকঃ মানুষের মল - মূত্র অঙ্গে লাগা৷ হালাল জন্তু অর্থাৎ যেসব জন্তুর মাংস হালাল সেগুলো৷ যথা - গরু , ছাগল , ভেড়া , মেষ , দুম্বা ইত্যাদির মল - মূত্র , এছাড়া রক্ত , শরাব , শুকরের মাংস শুকরের পশম , শুকরের হাড় প্রভৃতি নাপাক বস্তুগুলাে শরীরে লাগলে শরীর নাপাক হয়৷ এ অবস্থায় শরীরের নাপাক স্থানটুকু উত্তমভাবে ধুয়ে ফেললেই শরীর পবিত্র হয়৷ এমতাবস্থায় গোসলের প্রয়োজন হয় না৷ উল্লেখিত নাপাক বস্তু কাপড় চােপড়ে লাগলে তাও নাপাক হয়ে যায়। তখন তা ভালভাবে ধুয়ে পাক পবিত্র করতে হয়৷



Post a Comment

Previous Post Next Post